Freelancing_part : 3
গত দুই পর্বে আমি ফ্রিল্যান্সিং এর বেসিক সেই সাথে Upwork সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলাম। বলেছিলাম আজকের পর্বে আমি ফাইভার ( Fiverr ) আর ফ্রিল্যান্সার ডট কম ( Freelancer.com ) এর ব্যাপারে আলোচনা করবো। তারই ধারাবাহিকতায় আমার আজকের পার্টটা। শুরুতেই ফাইভার এ চলে যাই।
ফাইভার ( Fiverr ) : ফাইভার কী?
ফাইভার হল বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার অন্যতম বৃহত্তম ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। ফাইভার প্ল্যাটফর্মে প্রত্যেকটা ডিজিটাল সেবার জন্য অগণিত ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যার মধ্য থেকে গ্রাহকগণ তাদের পছন্দেরজনকে খুঁজে নেন। ফাইভার এর যেকোনো সেবার অফারকে গিগ বলা হয়। মাত্র ৫ ডলারেও বিভিন্ন সেবা পাওয়া যায় ফাইভার এ। এজন্যই এর নামের সাথে ফাইভ কথাটি যুক্ত আছে। যদিও এর চেয়ে অনেক বেশি দামে সেবা পাওয়া যায় ফাইভারে।
ফাইভার কীভাবে কাজ করে?
আপনি ফ্রিল্যান্সার হোন কিংবা বায়ার (গ্রাহক), ফাইভারে সেলিং বা বায়িং এর ক্ষেত্রে একাউন্ট থাকা আবশ্যক। ফ্রিল্যান্সারগণ তাদের সেবার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সম্বলিত গিগ পোস্ট করেন। গ্রাহকগণ সেখান থেকে তাদের পছন্দনীয় গিগটি বেছে নেন। কখনো শুধু সার্চ করে, কখনওবা প্রজেক্ট পোস্ট করে ফ্রিল্যান্সার খুঁজে নেন বায়াররা।
অর্ডার প্লেস হলে গিগ এর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ গ্রাহকের একাউন্ট থেকে কেটে নেয়া হয় এবং ফ্রিল্যান্সার এর একাউন্টে জমার জন্য অপেক্ষমাণ থাকে। প্রতি ৪০ ডলার মূল্য অপেক্ষা কম অর্ডারের জন্য ২ ডলার এবং ৪০ ডলার মূল্য অপেক্ষা বেশি হলে মূল অর্থ এর ৫ শতাংশ ফাইভার কেটে নেয়। অর্ডার বায়ার কর্তৃক কমপ্লিট হলে ফাইভার ফ্রিল্যান্সার সেই মূল অর্থের ৮০% পেয়ে যান। বাকিটা ফাইভার সার্ভিস চার্জ হিসেবে কেটে রাখে।
উল্লেখ্য, এই চার্জের পরিমাণ সময়ের সাথে কম-বেশি হতে পারে। তবে মূলনীতি এরকমই।
ফাইভারে কী কাজ করবেন?
ফাইভারে আপনি ইন্টারনেটভিত্তিক যেকোনো ধরনের সেবা প্রদান করতে পারেন। ধরুন আপনি ভালো লিখতে পারেন, সেক্ষেত্রে কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ করতে পারেন। কিংবা আপনি গান তৈরী করতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনি মিউজিক প্রডিউসিং এর কাজ করতে পারেন। অর্থাৎ আপনার যে ধরনের কাজেই দক্ষতা থাকুক না কেনো, ফাইভার এ আপনি কাজ করতে পারবেন। ফাইভার এর সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজগুলো হল, –
১. কন্টেন্ট রাইটিং
২. গ্রাফিক ডিজাইনিং
৩. ভিডিও এডিটিং
৪. প্রুফরিডিং
৫. ভয়েস-ওভার
৬. সফটওয়্যার বা ওয়েব ডেভোলপমেন্ট
৭. ওয়েবসাইট ডিজাইনিং
৮. ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট, ইত্যাদি।
কীভাবে সফল ফাইভার গিগ তৈরী করবেন?
যেহেতু ফাইভার গিগ সিস্টেমের উপর কাজ করে, তাই ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কার্যকরী গিগ তৈরী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফাইভার গিগ তৈরি করার সময় একজন ফ্রিল্যান্সারের যে বিষয়গুলি মাথায় রাখা দরকার-
আপনার সেবার সাথে মানানসই সঠিক ক্যাটাগরি ও সাব-ক্যাটাগরি এবং ট্যাগ নির্বাচন করুন। বায়াররা তাদের কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রিল্যান্সার খুঁজতে ক্যাটাগরি মেন্যু এবং ট্যাগ অধিক ব্যবহার করেন। তাই আপনার সেবার সাথে মিলিয়ে সঠিক ক্যাটাগরি ও সাব-ক্যাটাগরি নির্বাচন করা একান্ত জরুরি।
আপনার অফার করা সেবার সাবক্যাটেগরিতে কেমন প্রতিযোগিতা বিদ্যমান, তা বিশ্লেষণ করুন। ইতোমধ্যেই যে গিগগুলো ভালো অবস্থানে রয়েছে সেগুলো দেখুন এবং জানার চেষ্টা করুন যে সাবক্যাটেগরিতে আপনি গিগ পোস্ট করবেন, তাতে কী কী তথ্য যোগ করা প্রয়োজন।
যেহেতু ফাইভার একটি প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটপ্লেস, তাই আপনার গিগ এর টাইটেলটি হওয়া চাই ৮০ ক্যারেক্টার এর মধ্যে সবচেয়ে সেরা টাইটেল। আপনার কাজে নিজস্বতা কী আছে তা তুলে ধরুন। টাইটেলে ইমোশন যোগ করতে বিশেষণ ব্যবহার করুন। এছাড়াও আপনি কত দ্রুত কাজ সম্পন্ন করেন, তাও যোগ করতে পারেন।
ফাইভার এ একই গিগ এর জন্য একাধিক প্যাকেজ তৈরী করা যায়। এর যথাযথ ব্যবহার আপনাকে অপেক্ষাকৃত অধিক কাস্টমার পেতে সাহায্য করবে।
গ্রাহকগণ আপনার গিগ দেখেই আপনাকে কাজটি দিবে কিনা তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। গিগ এর মধ্যে আপনার সাথে কাজ করার সুবিধা, আপনিই কেনো কাজটির জন্য যথাযোগ্য লোক, তা তুলে ধরুন। এছাড়াও আপনার সোশ্যাল মিডিয়া লিংকগুলো গিগ এ যুক্ত করতে পারেন, যাতে প্রয়োজনে গ্রাহক আপনার সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে পারে। যদিও ফাইভার প্ল্যাটফর্মের বাইরে গিগের অর্থ আদানপ্রদান করলে সেটা যদি ফাইভার জানতে পারে তাহলে আপনার একাউন্ট ব্লক করে দিতে পারে। আপনার গিগ এর সেবা সম্পর্কিত ছবি, ভিডিও – এসব যুক্ত করুন। এর ফলে আপনার কাজের সম্পর্কে গ্রাহকগণ বিস্তারিত ধারণা পাবেন।
আপনার গিগ এর লিংক সোস্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন। ফাইভার এর মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। অ্যাপ এর মাধ্যমে গিগ হোয়াটসঅ্যাপ এর মত মেসেজিং অ্যাপে সহজেই শেয়ার করা সম্ভব। এছাড়াও কোরাতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে আপনার সেবা সম্পর্কে ছোট করে কয়েকলাইন লিখে মানুষকে জানিয়ে দিতে পারেন। ফাইভারে আপনি যখন কাজের নমুনা তৈরি করবেন মানে গিগ তৈরী করবেন তখন অবশ্যই SEO ফ্রেন্ডলি তৈরী করবেন এতে ভিউয়ার & ক্লিক এর সংখ্যা বাড়বে & ওয়াডারো বেড়ে যাবে। ভুলেও ক্রেতার সাথে কথা বলার সময় আপনর মেইল এড্রেস বা ফোন নাম্বার দিবেন না, এতে আপনার আইডি লক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ৯৫%। সেই সাথে এই ভিডিওটা দেখতে পারেন, আপনাদের উপকার এ লাগতে পারে ( https://youtu.be/_1gC68C73Ks )।
ফাইভার সেলার লেভেল :
গ্রাহক সন্তুষ্টি, সময়মত ডেলিভারি এবং হাই-কোয়ালিটি সেবার উপর নির্ভর করে ফাইভারে ফ্রিল্যান্সারদের সেলার লেভেল প্রদান করা হয়। প্রতিটা সেলার লেভেল ফাইভারে আলাদা স্ট্যাটাস ও পরিষেবা অর্জনে সহায়ক। প্রতি মাসে ফাইভারে আপনার কাজের বিবরণ অনু্যায়ী সেলার লেভেল আপগ্রেড হতে পারে। ফাইভারে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সেলার লেভেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফাইভার প্রোফাইলের মাধ্যমে কাজ পাওয়া যায় কি?
হ্যাঁ! ফাইভার প্রোফাইলের মাধ্যমে কাজ পাওয়া যায়। আপনি যদি একজন সেলার হন, তবে আপনার সেলার লেভেল, কাজের অভিজ্ঞতা, রেটিংস – এসব দেখে গ্রাহকগণ তাদের কাজের জন্য আপনার উপর ভরসা করবে। সুতরাং, প্রোফাইলকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করাও ফাইভারে সফল হওয়ার একটি ধাপ।
ক্লায়েন্টকে কীভাবে খুশি রাখবেন?
সেলার এবং ক্লায়েন্ট – এই দুটিই হল ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোর মূল চালিকাশক্তি। এজন্য ক্লায়েন্ট এর ইচ্ছা ও মতামতকে গুরুত্বের চোখে দেখা একজন সেলার এর নৈতিক দায়িত্ব। ক্লায়েন্টকে খুশি রাখতে একজন সেলার এর যেসব ব্যাপার লক্ষ রাখা জরুরি –
১. ক্লায়েন্ট এর সাথে ভদ্র ব্যবহার করা।
২. সময়ের মধ্যে সব মেসেজের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা।
৩. মাঝেমধ্যে ক্লায়েন্ট কোনো ব্যাপারে ভুল বুঝে বা বুঝতে পারেনা। সেসব ক্ষেত্রে সংকোচ না করে যথাশীঘ্রই ব্যাপারগুলি বুঝিয়ে দেয়া।
৪. অধিকাংশ ক্লায়েন্টই ফাইভার এর টার্মস অফ সার্ভিসগুলোকে গুরুত্বের চোখে দেখে। সুতরাং, সেগুলো মেনে চলা একজন সেলার এর একান্ত দায়িত্ব।
ফাইভার এবং ভবিষ্যৎ।
কোনো ফ্রিল্যান্সার যখন কোনো অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করা শুরু করে, প্রথমদিকে কাজ পাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে উঠে। তবে এই প্রক্রিয়া একবার শুরু হলে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়না। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য ফাইভারকে বেছে নিয়ে থাকেন, তবে হাতে সময় নিয়ে উপরোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করুন। ফ্রিল্যান্সিং জগতে সফলতা পাওয়া সময়ের ব্যাপার। সুতরাং, ধৈর্য্যহারা না হয়ে আপনার লক্ষ্যে অটল থাকুন। সময়ের সাথে সাথে সফলতা আসবেই।
কিভাবে ফাইবারে সুন্দর প্রোফাইল করবেন কিংবা বানাবেন, সেটা এই ভিডিও ( https://youtu.be/O0CDYkCdLM8 ) দেখলে, অনেক কিছু আপনাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
Freelancer. com : ফ্রিল্যান্সার.কম হলো বিশ্বব্যাপী সমাদৃত মুক্তপেশাজীবীদের জন্য অনলাইন মার্কেট প্লেসের ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটটির কর্মীরা এর মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির কাজ অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই করতে পারে। এটি ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এটির কার্যালয় লন্ডন, ম্যানিলা, ভনকোভার এবং বুয়েন্স আয়ার্সে রয়েছে।
১) একাউন্ট খোলার সময় সঠিক তথ্য দিন। কারন যেকোনো সময় Freelancer.com আপনার একাউন্ট সাসপেন্ড / লিমিটেড করে দিয়ে আপনার কাছে আপনার পরিচয় প্রমান করতে বলবে। আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স / যে ঠিকানা দিয়েছেন তার যেকোনো ইউটিলিটি বিল এর স্কেন করা কপি / ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিতে হবে। আপনি যদি ভুয়া তথ্য দিয়ে আকাউন্ট খোলেন তখন ধরা খেয়ে যাবেন , মাঝখান দিয়ে আয় করা ডলার গুলো হারাতে হতে পারে।
২) কখনই একাধিক একাউন্ট খুলবেন না। এক কম্পিউটার এবং মডেম থেকে একের বেশি একাউন্ট খোলা যাবে না। কখনও সাইবার কাফে অথবা অন্য কারো কম্পিউটার এ আপনার ফ্রিলান্সার একাউন্ট থেকে লগিন করবেন না। Freelancer.com এর সিস্টেম খুবই শক্তিশালী, আপনি কবে কোন আইপি দিয়ে কোন ব্রাউজার দিয়ে লগিন করেছেন ওদের কাছে সব হিসাব থাকে। তাই আবার বলছি কখনও এক কম্পিউটার অথবা মডেম দিয়ে একাধিক একাউন্ট খুলবেন না। আপনার কম্পিউটার দিয়ে বন্ধুর একাউন্ট খুলে দিবেন? তাও দেয়া যাবে না। ২ জনের একাউন্ট ই সাসপেন্ড হয়ে যাবে। প্রক্সি দিতেও চেষ্টা করবেন না।
৩) কখনও বিড করার সময় আপনার ইমেইল এড্রেস / স্কাইপে এড্রেস ক্লায়েন্টকে পাঠাবেন না । ফ্রিলান্সার ধরতে পারলে আপনার সমস্যা হবে। তবে আপনার ক্লায়েন্ট যদি আপনাকে প্রোজেক্ট অ্যাওয়ার্ড করে দেয় , সেক্ষেত্রে ইমেইল এড্রেস / স্কাইপে আইডি পাঠাতে কোন সমস্যা নাই । তবে তার আগে কখনই না। অনেক ক্লায়েন্ট স্কাইপে আইডি চাইবে, তাদের বলবেন আগে প্রোজেক্ট অ্যাওয়ার্ড করে দিতে। কারন এইটা ফ্রিলান্সার ডট কমের নিয়মবিরুদ্ধ।
৪) যেকোনো সমস্যায় ফ্রিলান্সার সাপোর্ট এর সহযোগিতা নিতে পারবেন। এইজন্য support@freelancer.com এ ইমেইল করতে পারেন, অথবা http://www.freelancer.com/users/helpdesk.php তে গিয়ে লাইভ চ্যাট করতে পারেন, এবং সেই সাথে আপনাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারেন।
৫) ক্লায়েন্টদের সাথে সবসময় ভদ্র ব্যবহার করবেন সেই সাথে ভদ্রভাবে কথা বলবেন।
৬) Freelancer.com এ মাসের শুরুতে আপনাকে ১০ টা বিড করার সুযোগ দিবে এবং প্রতি ২ দিন পর পর ১ টা করে বিড বাড়বে। তার মানে আপনি ১০ + ১৫ = ২৫ টা বিড করার সুযোগ পাবেন। বুঝে শুনে বিড করবেন তাহলে সফলতা আসবে । অনেক বেশি বিড করলে অনেক বেশি কাজ পাওয়া যাবে তা কিন্তু মোটেও নয় । আপনার বিডটি হতে হবে মানসম্মত মানের।
৭) কপি পেস্ট করে বিড করবেন না।
৮) ফ্রিলান্সার ডট কমের বেশ কয়েকটি মেম্বারশিপ প্লান আছে । আপনার ইনকাম যদি ভালো হয় তবে মেম্বারশিপ প্লান নিলে আপনার লাভ হবে । ফ্রি মেম্বারশিপ এ অনেক সুবিধাই পাওয়া যায় না, তার উপর পুরা ১০% প্রোজেক্ট ফি কেটে নেয়। আপনার ইনকাম যদি মাসে ৫০০$ এর বেশি হয় তাহলে স্ট্যান্ডার্ড মেম্বারশিপ আপনার জন্য লাভজনক হবে কারন তখন ১০% এর বদলে ৫% করে প্রোজেক্ট ফি কাটবে । আপনার আয় যদি ১০০০ ডলার এর বেশি হয় তাহলে প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ আপনার জন্য লাভজনক হবে কারন তখন ১০% এর বদলে ৩% করে প্রোজেক্ট ফি কাটবে।
৯) কোন প্রোজেক্ট আপনাকে যদি ক্লায়েন্ট অ্যাওয়ার্ড করে তবে সাথে সাথেই প্রোজেক্ট একসেপ্ট করবেন না । আগে দেখুন ক্লায়েন্ট মাইলস্টোন দিয়েছে কি দেয় নাই । মাইলস্টোন মানে হল প্রোজেক্ট ফি এর একটা অংশ যা আপনার ক্লায়েন্ট আপনার জন্য Freelancer.com এর কাছে জমা করবে। এই টাকাটা Freelancer.com আটকে রাখবে। আপনি এইটা তুলতে পারবেন না যতক্ষণ না আপনি কাজ কমপ্লিট করছেন এবং আপনার ক্লায়েন্ট মাইলস্টোন পেমেন্ট টা রিলিজ করে দিচ্ছে। আবার আপনার ক্লায়েন্ট ও এই টাকা ফেরত নিতে পারবে না। যদি কোন সমস্যা হয় তখন আপনি ডিসপুট দিতে পারবেন। মনে রাখবেন ফ্রিলান্সার ডট কম আপনাকে তখনই কাজের বিনিময়ে টাকার নিশ্চয়তা দিবে যখন আপনার প্রোজেক্ট এর মাইলস্টোন পেমেন্ট থাকবে। কারন মাইলস্টোন ছাড়া যদি আপনি কাজ করে ফেলেন এবং আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে টাকা না দিয়েই প্রোজেক্ট বাতিল করে দেয় তাহলে Freelancer.com কোন ভাবেই আপনাকে সহয়তা করবে না । কারন Freelancer.com প্রোজেক্ট জেতার সাথে সাথে আপনাকে ইমেইল করে বলে দিবে, We strongly suggest that you do not start work until a Milestone Payment is in place from client. In the unlikely event that an issue occurs involving your project we have a dedicated Dispute Resolution System in place to protect you.
তার মানে ফ্রিলান্সার ডট কম তখনই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে যখন আপনি মাইলস্টোন পেমেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করবেন। অনেক নতুন ক্লায়েন্ট এই বিষয়টা জানে না, তাকে এই পেজটা দেখতে বলুন, ( http://www.freelancer.com/faq/topic.php?id=2 , তাকে বুঝিয়ে বলুন টাকাটা সে সরাসরি আপনাকে দিচ্ছে না, টাকাটা সে আপনার জন্য ফ্রিলান্সার ডট কমের কাছে জমা রাখছে। আপনি এই টাকা তখনি পাবেন যখন আপনি কাজ শেষ করতে পারবেন এবং আপনার ক্লায়েন্ট মাইলস্টোন পেমেন্ট টা রিলিজ করে দিবে।
১০) কখনও সরাসরি কারও আকাউন্ট এ ব্যালেন্স ট্রান্সফার করবেন না। আপনার ক্লায়েন্টকেও বলবেন প্রোজেক্ট এর মাধ্যমে পেমেন্ট দিতে। আপনি যদি এমন কারো একাউন্টে সরাসরি ব্যালেন্স ট্রান্সফার করেন যার সাথে আপনি কোন প্রোজেক্ট করেন নি, তাহলে কিন্তু আপনার এবং তার দুইজনেরই একাউন্ট ই সাসপেন্ড করে দিবে এবং আপনাদের জিজ্ঞাসাও করতে পারে, আপনাদের মধ্যে সম্পর্ক কি এবং কেন আপনি তাকে ব্যালেন্স ট্রান্সফার করলেন।
ফ্রিলান্সার ডট কম এর ব্যাপারে আরও জানতে ( https://www.rokomari.com/book/57238/freelancer-com ) এই বইটা পড়তে পারেন।
আমার পরামর্শ :
একটি সুন্দর দেখতে প্রোফাইল পিকচার সেট করুন।
আপনার প্রোফাইল সকল তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণভাবে পূরণ করুন। প্রোপোজাল প্রেরণ বা জবের জন্য বিড করার সময় নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে সঠিকভাবে তুলে ধরুন। লোকাল ইভেন্টগুলোতে অংশ নিন। ক্লায়েন্ট এর মেসেজ এর যথাসময়ে সঠিকভাবে সাড়া দিন। নিজের কাজের যথাযত মর্যাদা নিশ্চিত করুন। সচেতন থাকুন যাতে কেউ আপনাকে ঠকাতে না পারে। সবসময় সততা অবলম্বন করুন। নিজের দক্ষতা সম্পর্কে বাড়িয়ে বললে সেটা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতিকর হবে। একাধিক একাউন্ট খুললে ব্যান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই সবসময় একটা একাউন্ট ব্যবহার করুণ। নিজে নিজে প্রাকটিস করে কাজের একটা পোর্টফোলিও তৈরি করুন কেননা আপনার কাজের স্যাম্পল না দেখে কেউই আপনাকে হায়ার করবে না ! কোনো জবের জন্যে আ্যপ্লাই করার সময়, ডিটেল কভার লেটার লিখবেন, লক্ষ্য করবেন ক্লায়েন্ট তার জব পোস্টেই ইনডাইরেক্টলি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করেছে, প্রত্যেকটার উত্তর দিন। কভার লেটার এমনভাবে লিখবেন যেন কাজের প্রতি আপনার ডেডিকেশন প্রকাশ পায়। অনেক সময় কভার লেটার ছাড়াও কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, এর মধ্যে একটা প্রশ্ন খুব কমন, "এই প্রজেক্ট সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?" এই প্রশ্নটির অবশ্যই উত্তর দিবেন, "না কোনো প্রশ্ন নেই" ভুলেও এমনটা লিখবেন না। এতেকরে কাজটা আপনি কতটুক জানেন সেটা প্রকাশ পায়। প্রথম যেই কাজটাই পাবেন, ক্লায়েন্ট সেটিসফেকশন সবার আগে, কারণ তার দেয়া ফিডব্যাকটাই আপনার পরবর্তী কাজ পেতে সাহায্য করবে। ভুলেও অতিরিক্ত কম রেটে বিড করবেন না, এতে করে আপনার কাজের কোয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠে। আপনার যখন ভালো ভাবে কাজটা শেখা হয়ে যাবে।তারপরে আপনার কাজের ধরণগুলোর সাথে আলাদা আলাদা প্রোর্টফলিও তৈরী করুন, যখন আপনার ক্রেতার সাথে কথা হবে তখন যাতে আপনি আপনার কাজের ধরণ প্রদশর্ন করতে পারেন। এটা কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্রেতা আপনার portfolio দেখার পরেই আপনাকে স্বরণ করতে পারেন। কাজ শেখার শুরুর দিকে আপওর্য়াক & ফাইভারে একাউন্ট না খোলাই বুদ্ধিমান এর কাজ। আপনি যখন কাজ টা শিখতে শুরু করেছেন, ঠিক কৌতূহল বসত একাউন্ট খুলবেন না, এতে আপনি & আপনার আইডির সমস্যা হতে পারে। কারণ কাজ জমা দেওয়া & কোন বার্তার উত্তর দেওয়ার উপরে সাইট গুলো আপনার উপস্থিতি & গুরুত্ব হিসাব করে রাখে। সর্ব প্রথম এই সব সাইটে যোগদান করতে চাইলে আপনাকে সম্পূর্ন কাজ জানতে হবে এবং ৯০ ভাগ হলেও মোটামুটি পারতে হবে। নতুন একাউন্ট খোলার সময় নিজেকে এক্সপার্ট বা সব জানতা ভাবা যাবে না। কিছু প্রোফাইল ক্যাটাগরি আছে বিগিনার, ইন্টারমিডিয়েট, এক্সপার্ট আপনি বিগিনার অথবা ইন্টারমিডিয়েট দিতে পারেন আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী। আপনাকে অবশ্যই ভাল ইংরেজি জানতে হবে। কারন সব কিছু ইংরেজিতে হয়। সুন্দর করে একটা ওভারভিউ দেবেন। সে ক্ষেত্রে কিছু প্রোফাইল থেকে আইডিয়া নিতে পারেন কিন্তু কপি করবেন না। মুখে হাসি থাকবে যাতে আপনাকে প্রফেশনাল মনে হয়। মুখে হাসি নিয়ে একটা প্রোফাইল ছবি দেবেন। কম করে ১৫-২০ টা আপনার কাজের উদাহরন আপনার পোর্টফলিওতে যোগ করবেন। অবশ্যই সবকিছু আপনার নিজের হতে হবে। অন্যের কোন কিছু কপি করা থেকে বিরত থাকবেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার সর্ম্পকে লিখুন। আপনার কাজের যোগ্যতা অনুযায়ী সার্টিফিকেট যোগ করুন। সবকিছু খুব ভাল করে রিভিউ করুন।
আশাকরি Upwork, Fiverr, Freelancer. com সম্পর্কে আপনারা প্রাথমিক একটা ধারণা পেলেন, যেটা আপনাদের এই সেক্টর এ অনেক কাজে দিবে। এই পোস্টটা লিখার জন্য আমি নেট থেকে কিছু পোস্ট কালেক্ট করে তারপর লিখেছি। আর ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আমার আগের দুই পোস্ট এর লিংঙ্ক আমি এটার সাথেই অ্যাড করে দিচ্ছি,
যারা পড়েন নি, উক্ত দুইটা পার্ট, পড়ে নিবেন। তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে। আমার নেক্সট পার্ট এ ফ্রিল্যান্সিং এর ক্যারিয়ার সেই সাথে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন দেওয়া থাকবে। যা আপনাদের ফ্রিলান্সার হতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

Comments

Popular posts from this blog