আচ্ছা তুমি কি নিজেই নিজের প্রজেক্ট বানিয়ে সবাইকে চমকে দিতে চাও কিংবা স্কুল, কলেজ অথবা ভার্সিটিতে বিভিন্ন প্রজেক্ট বানিয়ে সবাইকে আশ্চর্য করতে চাও। ঠিক একইভাবে সবাইকে তোমার মেধা, সেই সাথে ক্রিয়েটিভিটির সমন্ধে জানান দিতে চাও। অথবা তোমার কি কিছু বানাতে ভালো লাগে বা নতুন কিছুর উদ্ভাবন করতে ভালো লাগে। আচ্ছা তুমি কি ছোটবেলা থেকে চিন্তা করেছো কখনো, বাসার ফ্যান, লাইট, রিমোট থেকে শুরু করে বাচ্চাদের খেলনা কিংবা একটা রোবট কিংবা ড্রোন কিভাবে তৈরী করা হয়। আচ্ছা এই গুলা তৈরী করতে কি সত্যি ই খুব বেশী কিছু লাগে, নাকি অনেক বেশী জ্ঞান এর প্রয়োজন পড়ে, বা অনেক বেশী অধ্যবসায় এর 🙄🤔 ভেবেছ কখনো কি..? আচ্ছা তোমার কি নতুন নতুন প্রজেক্ট কিংবা নতুন নতুন কিছু আবিষ্কার করতে ভালো লাগে। আচ্ছা যদি এমন হতো, তুমি নিজেই তোমার বাসার লাইট, ফ্যান, খেলনা গাড়ি, রিমোট, কিংবা ছোট খাটো একটা রোবট নিজে নিজেই তৈরী করতে পারতে, তোমার চিন্তাধারা বা তোমার কথাতে যদি এই গুলা উঠতো বসতো তাহলে তোমার ভিতরে কেমন ফিল হতো বলো তো 😋😱 যদি এই গুলা করতে বা বানাতে তোমার ভালো লাগে তাইলে আমার আজকের এই পোস্টটা তোমাদের জন্য খুব ই উপকারী একই সাথে দরকারী হবে। তাহলে আর দেরী কেন পাঞ্জেরী, চলো শুরু করা যাক........
তবে শুরু করার আগে আরও কয়েকটি কথা, এই গুলা করতে বেশী জ্ঞান এর প্রয়োজন নেই। তোমার মধ্যে যদি ক্রিয়েটিভিটি থাকে, ভালো চিন্তাশক্তি বা আইডিয়া থাকে তাইলে তুমিও খুব সহজেই একটা প্রজেক্ট কিংবা এইরকম একটা কিছু বানিয়ে ফেলতে পারো। কি বিশ্বাস হয় না 😁 যদি নিজের উপর নিজেই বিশ্বাস না রাখো, তাহলে জীবনেও তোমার দ্বারা কোন কিছু করা সম্ভব নয়। সবসময় মনে রাখবে, রুহুল ভাইয়া একটা কথা বলেছিল " পৃথীবিতে কঠিন সহজ বলে কোন শব্দ নেই, সব কিছুই মানুষের সৃষ্টি করা " তুমি জীবনে ঠিক ততোসময় হারবে না, ঠিক যতোটুকু সময় তুমি নিজের উপর নিজের বিশ্বাস + কনফিডেন্স রাখবে। যায় হোক এবার মূল প্রসঙ্গে আসি।
প্লেটো একটা কথা বলে গেছিলেন সেই কথাটা কি জানো, যে কোন কাজ এর সব থেকে ফাস্ট অংশটা হলো শুরুটা। তাই তুমি যতোদিন শুরু করবে না, ঠিক ততো দিন তুমি নিজেও জানবে না যে, তোমাকে দিয়ে ঠিক কতো কী করা সম্ভব ছিল। আজকে আমার এই প্রথম লেসন এ তোমাদের ২টা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো, সেই ২টা জিনিষ হলো, ১. মাইক্রোকন্ট্রোলার আর ২. আরডুইনো।
মাইক্রোকন্ট্রোলার :--> মাইক্রোকন্ট্রোলার বলতে আসলে আমরা এক কথায় বুঝি, একটা ছোট কম্পিউটার বা কম্পিউটার এর ছোট ভাই। একটা কম্পিউটার এ যা যা থাকে একটা মাইক্রোকন্ট্রোলার এও তাই তাই পার্ট থাকে। একটা কম্পিউটার এ থাকে, প্রসেসর, ram, মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক,রোম, পাওয়ার সাপ্লাই আর এর বাইরে থাকে মাইস, কিবোর্ড, মনিটর। এই গুলা মিলেই একটা পূর্ণ কম্পিউটার হয়। কিন্তু আমরা যেসব প্রজেক্ট করি IOT বা রোবটিক্সস এর এই সব প্রজেক্ট এ এতোভারী কিছুর প্রয়োজন পড়ে না কিংবা কোন শক্তিশালী কম্পিউটার এর প্রয়োজন পড়ে না। এই জন্য বিজ্ঞানীরা তৈরী করলেন, ছোট একটা কম্পিউটার যার মধ্যে কম্পিউটার এর মতোই প্রসেসর, ram, মেমরি, চিপ থাকে। আর এটাই মাইক্রোকন্ট্রোলার। সব থেকে মজার একটা ব্যাপার বলি, একটা কম্পিউটার এর দাম যেমন ৩৫-৪০ হাজার টাকা বা তারও বেশী কিন্তু এই মাইক্রোকন্ট্রোলার এর দাম বাজারে ৭০-৯০ টাকার মতো। আমরা লাইট, কিংবা গাড়ি কিংবা রিমোট অথবা খেলনা বিমান যদি ভাংগি তাহলে ছোট কালো একটা জিনিষ পাবো, সেটাই মাইক্রোকন্ট্রোলার।
আরডুইনো :--> এবার আমরা আসবো আসল প্রজেক্ট এ 😛 তার মানে আমরা এততোসময় ধরে যার কারণে এতো কথা বললাম সেই জনাব টাই এই আরডুইনো। আমরা আরডুইনকে ওপেন সোর্স ও বলে থাকি আর কেন বলে থাকি সেই ব্যাপারে আসছি ধিরে ধিরে। ২০০৩ সালে ইতালির কয়েকজন প্রকৌশলী চিন্তা ভাবনা করলেন, আমাদের জীবনের ছোট বড় সমস্যাগুলো যদি কম্পিউটার এর মতো যন্ত্র দিয়ে যদি যে কেউই সমাধান করতে পারে.? তিনি এমন কিছু উদ্ভাবন করতে চাইলেন, যা দিয়ে ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বড় মানুষ, অল্প জ্ঞান এই ভালো ভালো জিনিষ তৈরী কিংবা আবিষ্কার করতে পারবে তবুও সেটা খুব ই সহজে। আর সেই থেকেই আরডুইনো এর যাত্রা। আর আরডুইনো ওপেন সোর্স বলতে আমি বুঝেয়েছি, এইটার কোড নেট এ available. যে কেউ ই চাইলে এই কোর্ড গুলো ব্যবহার, কিংবা পরিবর্তন কিংবা এই কোড এর ভালো বিকাশ ঘটাতে পারে। এর জন্য কারো কাছে কোন জবাবদিহিতা দিতে হবে না।এই কোড গুলো সবার জন্য উমুক্ত। তবে এই কোড গুলো কেউ যেমন ব্যবহার করতে পারে, ঠিক তেমন পরিবর্তন করে সেইভ ও করতে পারে আবার কেউ নিজে নিজে প্রোগ্রামিং করে কোড গুলো ব্যবহার এর জন্য সবাইকে দিয়ে দিতে পারে কিংবা নিজের কাজে লাগাতে পারে। তবে এই কোর্ড গুলো অবশ্যই C আর C ++ এর হতে হবে। আর এই জন্যই এটা ওপেন সোর্স। এখন আরডুইনো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত পরিচয় করিয়ে দেই, আরডুইনো হলো একটা ডেভোলপমেন্ট বোর্ড এই বোর্ড এর উপর ই মাইক্রোকন্ট্রোলার সহ সব চিপ বাসানো থাকে এবং সেই সাথে একটা ইউইসবি ( USB ) প্লাগ থাকে সেই সাথে থাকে একটা কেবল। আমি যে প্রজেক্ট বানাবো বা যা তৈরী করবো, ধরলাম আমি একটি রোবটিক্স গাড়ি বানাবো। তো তার জন্য অবশ্যই আমাকে কোড করতে হবে। আমার রোবট গাড়ি কি কি করবে বা আমি যা বলি বা যা দিক-নিদর্শনা দিব সেটা সে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে, গাড়িকে ডানে যেতে বললে যাবে, পিছে আসতে বললে আসবে, যদি আমি গাড়িকে কিছু জিজ্ঞাস করি তাহলে উত্তর দিবে কিংবা একটা মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য যা যা করার দরকার সব কিছুই কোডিং করে USB কেবল এর মাধ্যমে প্রোগ্রামটা আরডুইনোতে ইনস্টল করে দিতে হয়। এইভাবেই আপনি আপনার ইচ্ছাশক্তি কিংবা কল্পনাশক্তির বাস্তব রুপ ঘটাতে পারবেন ইভেন নিজেই একটা জিনিষ তৈরী কিংবা আবিষ্কার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে পারবেন। তবে এটা ছাড়াও আরও অনেক কিছু করতে হয়। তবে আজ এই পর্যন্তই, এটা নিয়ে আবার পরের পার্ট এ ধারণা দিব। ( https://techshopbd.com/ ) এইটা বাংলাদেশ এর মোটামুটি ভালো একটা সাইট এই যন্ত্র গুলা কেনার জন্য। দয়াকরে আমার এই লেখাগুলো কপি না করে শেয়ার করে রেখে দিন। কারণ আমি প্রতিটি লেখায় ই অনেক কষ্টকরে লিখি, শুধুমাত্র আপনাদের কথা চিন্তা করে।

Comments

Popular posts from this blog